Friday, April 10, 2020

অদ্য ১০ এপ্রিল হোমিওপ্যাথিক জনক হ্যানিম্যান-এর ২৬৫ তম জন্মবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক দিবস


অদ্য ১০ এপ্রিল হোমিওপ্যাথিক জনক হ্যানিম্যান-এর ২৬৫ তম জন্মবার্ষিকী ও আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক দিবস। তাহার পূর্ণ নাম ক্রিশ্চিয়ান ফ্রেডারিক স্যামুয়েল হ্যানিম্যান। তিনি ১৭৫৫ সালের ১০ ই এপ্রিল জার্মানির স্যাক্সনীর অন্তর্গত মিসেন নগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাহার মাতার নাম জোহানা ক্রিশ্চিয়ানা হ্যানিম্যান এবং পিতার নাম ক্রিশ্চিয়ান গডফ্রায়েড। হ্যানিম্যান –এর গ্রীক, হিব্রু, ল্যাটিন, আরবী সহ মোট ১১টি ভাষায় শিক্ষিত ছিলেন। তিনি মূলত ছিলেন একজন একনিষ্ঠ, জ্ঞানী, প্রগতিশীল ও অত্যন্ত সফল এলোপ্যাথিক চিকিৎসক। তিনি ১৭৭৮ হতে ১৭৭৯ পর্যন্ত ছাত্র অবস্থাতেই ট্রানসিলভ্যানিয়ার গভর্ণরের পারিবারিক চিকিৎসক ছিলেন। ১৭৭৯ সালে এনলার্জেন বিশ্ববিদ্যালয় হতে সর্বোচ্চ ডিগ্রী এম,ডি উপাধি প্রাপ্ত হন। ১৭৮১ সালের শেষের দিকে গোমেরনে জেলা মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে নিযুক্ত হন। চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগের সময় হতেই প্রচলিত পদ্ধতির উপর তাঁহার সন্দেহ গাঢ় হইতে থাকে। তাই তিনি সর্বদা বিশ্বস্থ ও টেকসই কোন চিকিৎসা ব্যবস্থার কথা চিন্তা করতেন। এক সময় তিনি ডাঃ কালেন সাহেবের মেটিরিয়া মেডিকা অনুবাদের সময় হঠাৎ দেখিতে পাইলেন যে, যে কুইনাইন জ্বর রোগে বিশেষ উপকারী অথচ সেই কুইনাইন সুস্থ শরীরে  সেবন করলে জ্বর রোগীর কতকগুলি লক্ষন সৃষ্টি করিতে সক্ষম। সুতরাং তিনি লক্ষ্য কারিলেন সুস্থ শরীরে কোন ঔষধ সেবন করিলে যে যে লক্ষন সমূহ প্রকাশ পায় যদি কোন পীড়ায় বা অসুস্থ শরীরে ঐ লক্ষণসমূহ বর্তমান থাকে তবে এই ঔষধ সেবন করিলে উক্ত অসুস্থ শরীরের লক্ষণসমূহ অন্তর্নিহিত হয়ে শরীর রোগ মুক্ত হইবে। এই চিন্তা করিয়া হ্যানিম্যান প্রথমে কুইনাইন নিজ শরীরে পরীক্ষা করিতে লাগিলেন এবং তৎপর নিজ পরিবারের উপর চিকিৎসা করিতে লাগিলেন এবং ইহাতে আশাতিরিক্ত ফল লাভ করিয়া ১৭৯০ সালে তাঁহার এই চিকিৎসা প্রনালী বিশ্ববাসীর কাছে প্রচার করিলেন যাহা হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা পদ্ধতি নামে চিরস্মরণীয় হয়ে রহিয়াছে। পরবর্তীতে তাঁহার জন্ম তারিখকে আন্তর্জাতিক হোমিওপ্যাথিক দিবস হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। তিনি ১৮৪৩ সালে ২রা জুলাই প্যারিসে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে হ্যানিম্যানের মৃদুস্বরে বলিয়াছেন ‘‘আমি বৃথা জীবন ধারন করি নাই’’।

Share:

Thursday, April 9, 2020

ঋতুস্রাব কি? ঋতুস্রাবকালীন অস্বাভাবিক লক্ষণ ও ঋতুকালীন নিয়ম-কানুন সমূহ।

ঋতুস্রাবঃ

যৌবন আরম্ভে সুস্থকায় স্ত্রীলোকদের জরায়ু মধ্য হইতে প্রতি ২৮ ‍দিন অন্তর একবার করিয়া শোণিতস্রাব হয় ইহাকেই ঋতুস্রাব বা রজঃস্রাব বলে। এই রজঃস্রাবই স্ত্রীলোকদের যৌবনারম্ভ। আমাদের দেশে ১১ হইতে ১৩ বৎসরের বালিকাদের প্রথম ঋতু হইতে দেখা যায়। স্বাভাবিক অবস্থায় ঋতুকাল সাধারণতঃ ২ দিন হতে ৭ দিন পর্যন্ত থাকিতে দেখা যায়। প্রত্যেকবার ৩ হতে ৮ আউন্স পর্যন্ত স্রাব নির্গত হয়। এই স্রাব ঈষৎ কালচে ও পাতলা। ৪৫ বৎসরের কিছু পূর্বে বা পরে ঋতুস্রাব বন্ধ  হইতে দেখা যায়। ঋতুস্রাব একেবারেই বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মেনোপজ বলে।

ঋতুস্রাবকালীন অস্বাভাবিক লক্ষণঃ

১) কোমরে ও তলপেটে বেশী যন্ত্রনা।
২) রজরোধ বা অত্যল্প রক্তস্রাব।
৩) অত্যধিক স্রাব।
৪) অধিকদিন পর্যন্ত রক্তস্রাব চলিতে থাকা।
৫) দুর্গন্ধযুক্ত বা বিবর্ণ স্রাব।
৬) জ্বর।

ঋতুকালীন নিয়ম-কানুনঃ

প্রত্যেক স্ত্রীলোকদের ঋতুকালীন কতকগুলি নিয়ম পালন করা উচিত। যেমনঃ
১) কোনপ্রকার কঠিন পরিশ্রমের কাজ না করা। জলপূর্ণ কলসী, বালতি, ভারি বক্স, বিছানা ইত্যাদি না তোলা।
২) ঠান্ডা জলে পা না ভিজানো। ঠান্ডা মেঝেতে না বসা বা পেটে ঠান্ডা না লাগানো। কোন কারনে ঠান্ডা লাগিলে রক্তস্রাব বন্ধ হইয়া তলপেটে যন্ত্রণা বা জরায়ু প্রদাহ হইতে পারে। বরং এই সময় গরম কাপড়ে পেট জড়াইয়া রাখা ভাল।
৩) স্বামীসহবাস না করা।
৪) গাড়ী না চড়া। উহাতে জরায়ুতে আঘাত লাগিয়া জরায়ুর স্থানচ্যুতি হইতে পারে।
৫) ময়লা কাপড় কখনও ব্যবহার না করা। পরিষ্কার ধোয়া ন্যাকড়া বা ন্যাপকিন ব্যবহার করা।

Share:

Welcome to this Site

az Homoeo Center এর পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ